অভাবের গল্প -৩

Posted on

(পূর্ব প্রকাশের পর)

“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””‘”

পর্ব : (৩) ক্রম ধারা (৭)

সকল সৃষ্টি ও সৃষ্টির শ্রেষ্টজীব মানব জাতির লালন,পালন,ভাল,মন্দ,উত্তান,পতন,মান ইজ্জত,ধন দৌলত সব কিছুর নিয়ন্ত্রন কারী একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। তাঁর ইশারাতেই উচুতলা থেকে কেউ নেমে আসে,সর্বনিম্ন স্তরে। আবার অবহেলিত বঞ্চিত মানুষ ও অধিষ্টিত হয়সমাজের সর্বোচ্চআসনে।

 ভাঙ্গা গড়ার এই খেলা চলছে সৃষ্টি লগ্ন থেকে, চলবে কেয়ামত পর্যন্ত। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত এবং তুহীনের অক্লান্ত পরি শ্রম ও সাধনায়, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বোর্ডের সেরা দশে স্হান করে নিয়েছে। ছবি সহ সেরা দশের খবরে যখন তুহীনের ছবি ভেসে উঠে টেলিভিশনের পর্দায়, তখন আনন্দে লাফিয়ে উঠে,রুমানা রায়হহান। 

ধমক দিতে গিয়ে ও থেমে যান,রায়হান সাহেব। বেগম রায়হানকে বলতে শুনা যায়,’তুহীন আজ পুরো মসাজকে তাক লাগিয়ে উজ্জল করল তার মা বাবার মূখ।আর আমাদের মাসুদ ফেল করে ধুলোয় মেশাল মান সম্মান। ‘ 

মিষ্টি নিয়ে আসেন তুহীনের বোন জামাই। পাড়া প্রতিবেশীদের মাঝে মিষ্টি কিতরন কালে, রমজান বলেন ‘আপনারা দোয়া কইরেন মিয়ারা,আমার তুহীন বড় ইস্কুল থাইক্কা বড় পাশ দিছে।’

 তুহীনের বিপদে যারা খুশী হয়েছিলেন,তারা ও কেউ পিছিয়ে পরেনি মিষ্টি নিতে। এমন কি অনেকের মূখেই শুনা যায় তুহীনের প্রশংসার কথা। “হায়রে সমাজ : এটাই কী তোর ধর্ম? এমনই কী তোর রীতি?

 ঐ দিকে রুমানারায়হন ও পিছিয়ে পরেনি মিষ্টি বিতরনে। সমাজে কিছুটা গুন্জন ও শুরু হয়, ওর মিষ্টি বিতরন নিয়ে। কারো কারো মূখে শুনা যায়,ভাই ফেল করেছে অথচ রুমানা মিষ্টি বিতরণ করছে? কয়জনের মূখ আর বন্ধ রাখা যায়, কেউ কেউ তো বলতেই শুরু করেছে, ‘তুহীনের সাফল্যে আনন্দিত হয়েই মিষ্টি বিতরণ করছে রুমানা। রায়হান সাহেব ব্যাপারটা টের পেয়ে ও চুপ করেই থাকেন। 

ইতি মধ্যে তুহীনের লেখা দু’চারটা কবিতা ও প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্রিকায়।

 রাজধানীর বড় একটা স্বাংস্কৃতি গোষ্টির পক্ষথেকে ‘গ্রামীণ অর্থনীতিরঅবক্ষয় ‘ শিরোনামে লেখা আহ্বান করা হয়,যার প্রথম পুরস্কার হিসাবে ঘোষনা করে নগদ দুই লক্ষ টাকা।

মাধ্যমিকে ফেল করে মাসুদ রায়হান জড়িয়ে পরে নানা অপকর্মে। মদ,গাঁজা,চুরি ছিন্তাই থেকে শুরু করে এমন কোন হীন কাজ নাই যা মাসুদরায়হান করেনি।

রায়হান সাহেব নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে, গ্রামের শালীশ,বৈঠক থেকে। কেননা মাসুদরায়হান এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে,এখন সংসার সামাল দেওয়াই তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পরেছে।

 অল্প কিছু দিন পরই পুলিশ মাসুদ রায়হানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়, খুনের মামলার প্রধান আসামী হিসাবে। মামলা মোকাবেলা করতে গিয়ে জমি বিক্রি শুরু করেন রায়হান সাহেব। তার জমির প্রধান গ্রহীতা হয়ে উঠেন, রমজান।গ্রামের শালীশ কৈঠকে এখন মাঝে মাঝে ডাক পরে রমজানের। চলবে,,,,,,,,,,,

(পূর্ব প্রকাশের পর)

 পর্ব : (৩) ক্রম ধারা (৮)

ঐ দিকে রাজধানীর সাংস্কৃতি গোষ্টির ঘোষিত প্রথম পুরস্কারটি লাভ করেন তুহীন। পুরস্কারের পুরো দু ‘লক্ষ টাকাই পাঠিয়ে দেয়,রমজানের কাছে। আগের জমির আল ঘেষা জমি ক্রয় করে একই প্লটে কয়েক বিঘা জমির মালিক হয়ে উঠেন রমজান। এখন আর কার সাধ্য যে, রমজানকে চোরের বাপ বলে ডাকে? রমজান থেকে তিনি হয়ে উঠেন রমজান সাহেব।

    এলাকায় ওয়াজ মাহফিল থেকে শুরু করে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা ফলা ফল ঘোষনা অনুষ্টানে রমজান সাহেবকে দেখা যায়,প্রধান অতিথি অথবা সভাপতির আসনে। কথা বার্তা পোষাকআষাকেও তিনি যেন আজ সমাজের প্রতিষ্টিত একজন ব্যাক্তি। সামাজিক আড্ডাখানায় এখন আলোচার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছেন রমজান সাহেব।

          মেধা,সফলতা,নম্রতা ও ভদ্রতার গুনে তুহীন হয়ে উঠে শিল্পপতি সমশের চৌধুরীর পরিবারের একজন অবিছেদ্দ। সদস্য।

     হেনা চৌধুরী এখন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে ও আস্তে আস্তে শিখতে শুরু করেছে,জীবনের এদিক ওদিক,চারিদিক।

 শমসের সাহেব নিজেই একদিন চলে আসেন তুহীনের পড়ার ঘরে। সালাম দিয়ে দাড়িয়ে থাকে তুহীন। দাড়িয়ে কেন,বাবা বস। তোমার মেধা আর ভদ্রতা দেখে আমি মুগ্ধ। এখন তো তোমাকে আর পর ভাবা যায়না। 

তুমি আমার পরিবারেরই একজন হয়ে গেছ। তুমি আমার ছেলের জায়গাটাই দখল করে নিয়েছ। তুমি ভবিষ্যতে কী হতে চাও তা জানতেই তোমার কাছে এলাম। এছাড়া দীর্ঘ আড়াই বছর গত হয়ে গেল কিন্তু একদিনের জন্যও বাড়ি যাওনি? কে কে আছে তোমার গ্রামের বাড়িতে?

শমসের সাহেবের প্রথম প্রশ্নের উত্তরে তুহীন জানাল,সে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। মাঝের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে শেষ প্রশ্নের উত্তরে জানাল, মা,বাবা,ভাই বোন সবই আছে। 

ঠিক আছে বাবা ডাক্তার হতে যত টাকা লাগে তা আমি দেখব,এ ব্যাপারে তোমার কিছু ভাবতে হবে না। আর আমার হেনা মা মনির প্রতি একটু খেয়াল রাখিও। তাহলে আমি এখন আসি বাবা।

 চলে গেলেন শমসের সাহেব। ভাবনার অথৈ সাগরে যেন পরে গেল তুহীন। কী উত্তর দিবে বাড়ি না যাওয়ার প্রশ্নের? ডাক্তার হওয়ার সব খরচ দিবেন,শমসের চৌধুরী? নজর রাখতে হবে,হেনার প্রতি? সব মিলিয়ে চিন্তার মহাসাগরে হাবু ডুবু খাচ্ছে তুহীন। 

আবার নিজেই নিজেকে শান্তনাদিচ্ছে, আর যা’ই হোক জীবনে প্রতিষ্টা লাভের পূর্বে বাড়ি যাওয়া যাবেনা। ডাক্তারি পড়ার খরচ চালানোর সামর্থ তো আমার বাবার হয়েছে, তবে শমসের চৌধুরী সাহেব কেনই বা বললেন খরচ বহন করবেন? হেনার প্রতিই বা বিশেষ কী নজর রাখতে হবে? সব কিছু মিলিয়ে একেবারে হাপিয়ে উঠছে তুহীন। তবে শান্তনা পায় এই ভেবে যে,ডাক্তারীতে ভর্তি হওয়াতো আরও অনেক সময় বাকী সময় হলে চৌধুরী সাহেবের প্রস্তাব ভেবে দেখা যাবে। 

আর হেনার প্রতি নজর রাখা মানে পড়া লেখায় মনোযোগী করা।

এই সব ভাবতে ভাবতে যখন,তুহীন ঘুমাতে যাবে ঠিক তখন শুনা যায় দরজায় কড়া নারার শব্দ।

তুহীন জানতে চায়, কে? বাহির থেকে উত্তর আসে ‘আমি হেনা।

দরজা খুলতে খুলতে তুহীন জিজ্ঞেস করে এত রাতে তুমি?

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে হেনা বলে,কত আর রাত হল? সবে মাত্র বারটা বাজে।

          চলবে,,,,,,,,,,,,,

অভাবের গল্প -১ নেকবর খান