মোনা সিনেমা ও সামিনা বাসারঃ
অভিনয়ে নিয়মিত, সুন্দরী ও সুঅভিনেত্রি সামিনা বাসার এর জাজের সাথে প্রথম কাজ “মোনা” ।
আজ সামিনা বাসার এর কিছু কথা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে । এমন ঘটনা শুধু সামিনা বাসার একাই করে নাই, আরও অনেক মেয়েই করেছে ।
খুলনার মেয়ে সামিনার ইচ্ছা ছিল কর্পোরেট লেডি হওয়ার । কিন্তু জাজের প্রথম সিনেমা ভালবাসার রং দেখে বিশেষ করে ভালবাসার রং এর ভালো লাগার চেয়ে একটু বেশি গানটি দেখে, তার স্বপ্ন জানে নায়িকার হওয়ার ।
বাসায় জানালে তাকে মানা করা হয় । ফলে, সে বাসা থেকে পালিয়ে সোজা চলে যায় খুলনা রেল স্টেশনে । লক্ষ ঢাকা আসা, জাজে আসে । জাজের ঠিকানা সে গুগল থেকে ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছে । কিন্তু তার পরিবার খবর পেয়ে যায়, তাকে ধরা হয় স্টেশন থেকে । এরপর তার পরিবার তাকে বলে, HSC তে A+ পেলে তাকে জাজে যেতে দেয়া হবে ।
সুন্দরী মেধাবী সামিনা সব ভুলে অসম্ভব মনযোগী হয়ে উঠলো । পরীক্ষা পাশের জন্য না, তাকে A+ পেতে হবে, জাজের নায়িকা হওয়ার জন্য । পরীক্ষা দিল এবং HSC এর রেজাল্ট বের হলো । A+ পেয়েছে । বাসায় বলল সে শর্ত পূরন করেছে, এবার সে ঢাকা আসবে ।
তার পরিবার কথা রাখলো না । বলল গ্রাজুয়েশন করে যাও । ফলে, আবার পালালো । এবারও ধরা পড়ে গেল । রীতিমত জোড় করে ভারতের বিখ্যাত চণ্ডীগড় ইউনিভারসিটিতে ভর্তি করিয়ে সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হয় । যাতে সেখান থেকে আর পালিয়ে জাজে আসতে না পারে ।
মেধাবী সামিনা, অসম্ভব ভালো রেজাল্ট করে স্নাতক শেষ করে, ঢাকা আসে । এখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক । এবার সে ঢাকা আসে, পরিবারের বাধার মুখে ।
জাজে আসে ঠিকই । কিন্তু হয় কপাল দেখা মিলে না জাজের চেয়ারম্যানের সাথে । যিনি জাজের ক্রিয়েটিভ হেড । কে নায়ক কে নায়িকা কে পরিচালক কি গল্প কি গান তা ঠিক করে একমাত্র জাজের চেয়ারম্যান । কিন্তু উনার সাথে দেখা করতে পারছে না । আর মিডিয়াতে ও তার পরিচিত কেউ নেই । একদিন এক সিনেমার পরিচালকের সাথে তার দেখা হয় ।
সামিনা উনাকে জানায় যে সে জাজের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ এর সাথে দেখা করতে চায় । সেই পরিচালক তাকে বলে দেখা করিয়ে দিবে কিন্তু তাকে ৫০ হাজার টাকা দিবে । আর্থিক ভাবে সামিনার পরিবার যথেষ্ট সচ্ছল । কান্নাকাটি করে সুসাইড করার হুমকি দিয়ে বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দেয় সেই পরিচালক । কিন্তু বিধাতা এবার ও মুখ তুলে তাকালো না সামিনার দিকে । সেই পরিচালক আর দেখ করিয়ে দিতে পারে নাই ।
তারপর একজনের মাধ্যমে সিনেমার এক প্রভাবশালী প্রযোজকের সাথে দেখা করে, তাকে অনুরোধ আবদুল আজিজ এর সাথে দেখা করিয়ে দিতে । সে জনও দেখা করিয়ে দিবে দিচ্ছে করে অনেক দিন পার করে, সেই প্রযোজকের অফিসের পরিচয় হয় এক স্ক্রিপ্ট রাইটার এর সাথে । তাকে তার মনের কথা জানালে সেই লোক তাকে দেখা করিয়ে দেয় আবদুল আজিজ এর সাথে ।
কিন্তু এবার ও বিধাতা উপড়ে বসে মুচকি হাসছে । দেখা হলো, অডিশন হলো । নাচে অভিনয়ে পারদর্শী । তাই অডিশনেও পাশ করে গেল । কিন্তু শুরু হয়ে গেল করোনা । জাজ সব কাজ বন্ধ করে দিল ।
ইতি মধ্যে সামিনা নাটকে বেশ কিছু কাজ করলো । আর অপেক্ষা করলতে লাগলো, কবে জাজ সিনেমা শুরু করবে, কবে তার ডাক আসবে । সবশেষে, এলো সেই শুভক্ষণ । ডাক আসলো জাজ থেকে শুরু হলো, মোনা । মোনাতে থেমে নেই সামিনা । জাজের আরেকটা সিনেমা চুক্তি করেছে । একক নায়িকা হিসাবে । সেই সিনেমার নাম পরে জানানো হবে ।
এবার এত কিছু বলার সারমর্ম বলি । এই কথাটা অবশ্য অগ্নি-৩ এর সংলাপ । আর সেটা হলোঃ
“তুমি যদি মন থেকে কিছু চাও, জীবনের লক্ষ হয় সেই চাওয়া পুরুন আর সমস্ত মেধা, শক্তি, কর্ম হয় সে চাওয়া পূরণ হওয়ার, তবে তোমার চাওয়া/লক্ষ পুরুন হবেই । কেউ তা রুখতে পারবে না ।”
বিঃ দ্রঃ সম্প্রীতি দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী খুলনা থেকে পালিয়ে জাজের অফিসে আসে । জাজের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করবে । তাকে দেখা করতে দেয়া হয় নাই । বরং তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে । এখানে উল্লেখ থাকে যে ১৮ বছরের নিচে কাউকে বাবা মা এর অনুমতি ছাড়া সিনেমাতে নেয়া হয় না । আর জাজে আসলেই আমাদের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করা যায় না ।
কাউকে বাসা থেকে পালিয়ে না এসে, বরং মন দিয়ে লেখা পড়ার অনুরোধ করছি । লেখা পড়ার কোন বিকল্প নেই । জাজ অশিক্ষিত কাউকে নিয়ে কাজ করে না । যেমন, মাহি বাপ্পি ফারিয়া রোশান সিয়াম পূজা । সবাই শিক্ষিত বা লেখপড়া করছে ।
অভাবের গল্প -১ নেকবর খান
তথ্যঃ সংগ্রহীত 👇
https://www.facebook.com/216661841817287/posts/2358424800974303/
