(পূর্ব প্রকাশের পর)
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””‘”””””””
পর্ব : (৪) ক্রম ধারা : (১১)
“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
অনুষ্ঠাণ ঘিরে এলাকায় চলছে,নানা জল্পনা কল্পনা আর রমজান পরিবার ভাবছে ভিন্ন রকম ভাবনা।
অনেক দিন পর ছেলেটা বাড়ী আসছে,সাথে রয়েছেন যার অবদানে ছেলের সফলতা, সে শিল্পপতি শমসের আহম্মেদ চৌধুরী।শিল্পপতিকে আপ্যায়নে সন্তুষ্ট করা একটা কঠিন ব্যাপার। তবু চেষ্টার তো ত্রুটি করা যায় না। তাই কয়েক দিন ধরেই চরছে বাড়ী ঘর পরিস্কার পরিছন্ন আর ধুয়া মুছার কাজ। বাড়ী ঘর সাজ গোজ করতে রমজানের সাথে দিনরাত পরিশ্রম করছে তার বড় ছেলে শাহীন।
ঐ দিকে জামাই সহ ছয় মেয়েও বাড়ীতে। সব মিলিয়ে রমজান পরিবারও পরিনত হয়েছে এক মিলন মেলায়। জামাই সহ মেয়েদের জন্য নতুন জামা কাপড় ইত্যাদি সব কিছু ইতি মধ্যেই সম্পন্ন। জয়নব,শাহীন এবং নিজের জন্যও কমতি রাখেননি কোন কিছুর। আর তুহীনের জন্য যে ব্যাবস্হা হয়েছে,তা রাজ পুত্রের তুলনা যোগ্য। শমসের আহম্মেদ চৌধুরী সাহেবের জন্য পায়জামা,পন্জাবী,জুতু জুড়া কেনা হয়েছে,যা একজন শিল্পপতির জন্য একান্ত ভাবেই মানানসই। গ্রামের মানুষেরও যে রুচি বোধ আছে, তারাও যে আধুনিকতার দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই তা বুঝা যায়, রমজান পরিবারের আয়োজন থেকেই।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে শুরু করে সমগ্র এলাকার সাজ দেখে কার বলার সাধ্য আছে যে,এটা একটা অজপাড়া গাঁ? দেখে মনে হয় সপ্ন পুরীকেও হার মানিয়েছে।
রুমানা রায়হানকে দেখে মনে হবে যেন কোন এক স্বর্গরাজ্য থেকে সাজ গোজ করে আকাশ থেকে নেমে এসেছে অপূর্বসাজে সজ্জিত এক ডানা কাটা পরী।
অন্যরা যে যার মত করে সাজলেও রুমানা রায়হানের সাজ তো শুধু মাত্র তুহীনের জন্য।
কেননা মালা পরাতে গিয়ে আজই তো তুহীনের স্পর্শ পাবে, আজই তো একজন আরেক জনকে দেখবে, স্বপ্নের রাজ কুমার আর রাজকুমারী রুপে!।
সকাল থেকেই এলাকা লোকে লোকারণ্য। ধারন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে বিদ্যালয় মাঠ। গ্রাম পরিপূর্ণ হয়ে মানুষ ঠাঁই নিয়েছে মাঠে, ময়দানে। ভরসা তাদের একটাই অথিতিদের দেখতে না পেলেও কথা শুনা যাবে। কারন মাইকের সংযোগ স্হাপন করা হয়েছে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত।
ঘড়ির কাটায় সকাল সাড়ে নয়টা,গ্রামে প্রবেশ করতে দেখাযায় কালো রাঙের একটা প্রাইভেট কার। প্রধান অথিতির আগমনী বার্তায় মানুষ শ্লোগান দিতে শুরু করে।
বিদ্যালয় মাঠে আসার পর গাড়ী থেকে নামতে দেখা যায়, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহীনিদের। উপরে ইঙ্গিত করে দর্শকদের বুঝালেন,প্রধান অথিতে আসছেন হেলিকপ্টারে করে।
হেলিকপ্টারের কথা শুনে আরেক দফা উল্লাসিত হয়ে উঠলেন এলাকাবাসী।
মানুষজনের কল্পনাকেও যেন হার মানালেন শিল্পপতি শমসের আহম্মেদ চৌধুরী। গ্রামের মাটিতে দেখবে হেলিকপ্টার? কে ধরে রাখে আর ঘরের নারীদের? নব বধু থেকে শুরু করে সত্তুর বছরের বৃদ্ধারাও বেড়িয়ে এলেন ঘরের বাইরে।
উপরে ঘুরছে, হেলিকপ্টার, ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ শ্লোগান দিচ্ছে আর দৌড়াচ্ছে, হেলিকপ্টারের পিছু পিছু। চালকের সাধ্য কী, এত মানুষের ভিরে হেলিকপ্টার মাটিতে নামায়? অবশেষে আইন শৃংখলা রক্ষাকারীদের সহায়তায়, চালক হেলিকপ্টারটি অবতরণে সক্ষম হোন।
স্হানীয় অথিতি সহ শিক্ষার্থীরা ফুলের ঢালা নিয়ে উপস্হিত হয়, অবতরণ স্হলে। একে একে নামতে শুরু করেন, প্রধান অথিতি,হেনাচৌধুরী, প্রকৌশলী আর গনমাধ্যম কর্মীরা। শ্লোগান সহ ফুল ছিটানো নিয়ে ব্যাস্ত সবাই।
হতাশায় ভেঙ্গে পরে রুমানা রায়হান। ঝল মলে সূর্যটা যেন এক নিমিষে গ্রাস করে ফেলেছে, রাহু নামের দ্বৈত্যটা। সমগ্র পৃথিবী জুড়ো যেন নেমে এল অমাবশ্যার ঘুর অন্ধকার। বুকের পাজর গুলো যেন ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে শক্তিশালী কোন এক মহাদানব।
চোখের পানি আর চিৎকার করার শক্তিটুকুও যেন ছিনিয়ে নিল সৃষ্টি কর্তা। মহা প্রলয়ে থর থর করে কাপছে পৃথিবী। মাথার উপর চেপে বসেছে, বিশাল আকৃতির দ্ধৈত্য। হাতে পায়ে শিকল পরিয়ে দিয়েছে বিধাতা। অস্পষ্ট শুধু বলছে,আমার তুহীন কোথায়? সে এলনা কেন?
সুচী অনুযায়ী অথিতি বৃন্দের আসন গ্রহনের পর,উপস্হাপককে বলতে শুনাযায়,তুহীনের হয়ে যিনি মঞ্চে উপবিষ্ট, প্রধান অথিতির একমাত্র কণ্যা,হেনা চৌধুরীকে মালা দানের মাধ্যমে বরণ করবেন,অত্র বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী, রুমানা রায়হান।
উপস্হাপকের কথা ধ্বনি থেকে প্রতি ধ্বনিত হতে লাগল রুমানার কানে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও সে সামনে এগুতে পারছেনা। অবশেষে দু’জনের সহযোগিতায় মঞ্চে এসে হেনা চৌধুরীর গলায় মালা দেয়ার সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে মঞ্চেই পরে যায় রুমানা রায়হান।
চলবে,,,,,,,,,,
পূর্ব প্রকাশের পর : পর্ব :৪ ক্রম ধারা : ১২
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
ডাক্তার দেখাতে হবে বলে – আসন ত্যাগ করে রুমানাকে নিয়ে চলে যান রায়হান সাহেব।
অনুষ্টাণে ক্ষণিক ছন্দপতন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,বিদ্যালয় পরিচালানা পর্ষদ ও অনুষ্টাণের সভাপতির আসন গ্রহন করেন, রমজান সাহেব।
ছন্দ ফিরে এলে,বক্তৃতা পর্বে তুহীনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, হেনাচৌধুরী। অনুপস্হিতির কারন ব্যাখ্যা সহ তুহীনের লেখা ” গ্রাম হবে শহর ” শিরো নামের প্রবন্ধ পাঠ করে শুনান, হেনা চৌধুরী। দর্শক, স্রোতার করতালীতে মূখরিত হয়ে উঠে অনুষ্টান স্হল।
প্রধান অথিতির বক্তৃতায় শমসের আহম্মেদ চৌধুরী বিদ্যালয়ে পাঁচ তলা ভবন নির্মান সহ শিক্ষার্থী কল্যাণ তহবিলে দান করেন বিশ লক্ষ টাকা।
আরও ঘোষণা করেন অত্র এলাকায় একটি শিল্প প্রতিষ্টান স্হাপন করবেন বলে। নির্দেশ মতে প্রকৌশলী সাহেব ভবনের নক্সা তৈরীর কাজে মনোনিবেশ করেন। উপস্হিত জনতা আরেক দফা ফুল ছিটিয়ে পুরো মঞ্চটাকে পরিনত করেন পুষ্পস্তম্বে। রমজান সাহেব সমাপ্তি ঘোষনা করলে জয় ধ্বনির মধ্য দিয়ে বিদায় হয়, দর্শক স্রোতা।
অন্যান্য আনুষ্টানিকতা শেষ করে, শমসের আহম্মেদ চৌধুরী, হেনা চৌধুরী,প্রকৌশলী এবং আরও বেশ কয়েক জন যান, রমজান সাহেবের বাড়ী।
হেনা চৌধুরী ভিতর বাড়ী গিয়ে সবার সাথে কুশল বিনিময়ের পর মেথে উঠে খোশ গল্পে। রমজানের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে জায়গা নির্ধারনের পর তুহীনদের বাড়ীতে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের নকশাতৈরী শেষে সাবাই প্রবেশ করেন ভিতর বাড়ীতে।
ভোজন পর্ব শেষ করে,সকলে মিলে গল্প চলে অনেক্ষণ।বিদায় লগ্নে তাঁর বাড়ীতে যাওয়ার জন্য সবাইকে নিমন্ত্রন করেন শমসের আহম্মেদ চৌধুরী সাহেব। হেনা চৌধুরীর মাথায় হাত বুলিয়ে তার সু স্বাস্হ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করেন জয়নব সহ অন্যান্যরা।
হেলীকপ্টার পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়, উপহার সামগ্রী। উভয় পক্ষ হাত নাড়িয়ে জানায়,বিদায় সম্ভাষন। উড়ে চলে হেলীকপ্টার।
চলবে,,,,,,,,
পূর্ব প্রকাশের পর : পর্ব ৫ : ক্রম ধার ;১৩
শহরে ফিরে গিয়ে,বাপ বেটি দু’জনেই অনুষ্টাণের আদি অন্ত ব্যাক্ত করেন তুহীনের কাছে। হেনাচৌধুরীর কাছ থেকে, তুহীন তার মা -বাবা,ভাই,বোনদের সব খবরা খবর জানেন।
রমজান পরিবারের সদস্য সহ এলাকার লোক জনের গুণ কির্তনে, হেনা চৌধুরী একেবারে পঞ্চমূখ।
বিদ্যালয়ে পাঁচ তলা ভবন নির্মণের কথা শুনে আনন্দিত হলেও,তুহীনদের নিজ বাড়ীতে ভবন নির্মাণের কথা শুনে অনেকটা চুপ হয়ে যায় তুহীন।
মা -বাবার দেওয়া সব জিনিস পত্র বুজিয়ে দিয়ে সবশেষে সেই মালাটি বের করে, হেনা চৌধুরী বলে “এই মালা পরাতে এসে জ্ঞান হারিয়ে মঞ্চে লুটিয়ে পরে রুমানা রায়হান নামে এক শিক্ষার্থী। শুনিছি তার বাবা নাকি এলাকায় খুব প্রভাব শালী ব্যাক্তি ছিলেন।
এখন তার প্রভাব পতিপত্তিতে ভাটাও পরেছে। আপনার বাবার নাম যশ চারিদিকে ছড়িয়ে পরতে শুরু করেছে। এছাড়া আপনার বাবা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভা পতিও হয়েছেন।”
কথা গুলো তুহীনের এক কান দিয়ে ঢুকছে আরেক কান দিয়ে বেরুচ্ছে। একটা কথা শুধু ওর মনে বার বার ঘুর পাক খাচ্ছে। ” রুমানা জ্ঞান হারাল কেন? সে এখন কেমন আছে? ” রুমানার বাপ তো আস্ত একটা অমানুষ।
তার বিষয় সম্পত্তি চলে যাক। নাম যশ পুড়ে চারখার হয়ে যাক। কিন্তু রুমানা! রুমানার কিছু হলে সে বাচবে কাকে নিয়ে? রুমানা’ই তো স্বপ্ন, রুমানা’ই তো সাধনা। ওর জন্যই জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া।
তুহীনের অন্য মনস্কতা দেখে, হেনা চৌধুরী আবার প্রশ্ন বোধক কথা শুরু করেন,”কী ভাবছেন? কাকে নিয়ে ভাবছেন? মা -বাবা, ভাই বোনকে নিয়ে? গ্রামের ব্ন্ধু বান্ধকে নিয়ে? না কী রুমানাকে নিয়ে?
ঘুর কেটে গেলে তুহীন বলে,কই, নাতো। আমি ভাবছি তোমাদেরকে নিয়ে। কারন দু’দিন পরই তোমাদের ছেড়ে চলে যেতে হবে রাজধানীতে।
ছেড়ে চলে যাবেন বলছেন কেন? সপ্তাহে দু’দিন তো আসবেনই।এ ছাড়া আপনি না আসলে আমি পড়ব কার কাছে? প্রশ্ন বোধক দৃষ্টিতে থাকায়, হেনা চৌধুরী। আমি তো সপ্তাহের সেই পাঁচটি দিনের কথাই ভাবছি,হাসিমূখে কথাটি বলেন,তুহীন।
কল্পনার ডানায় ভর করে হেনা চৌধুরী। ধুৎ ছাই, আমি কিছুই পারিনা। আমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা। ভাল বাসার বিন্দু বিসর্গও আমি বুঝিনা। যদি বুঝতাম তাহলে,ইনিয়ে, বিনিয়ে তুহীন কে বলতাম। তুমি চলে যাবে, রাজধানীতে, সপ্তাহের পাঁচটি দিন আমি কাকে নিয়ে কাটাব? তোমাকে ছাড়া পাঁচটি সেকেন্ড ও আমি কল্পনা করতে পারিনা। দিন রাত শুধু তোমাকেই দেখতে চাই। তোমাকে আমার চোখের আড়াল হতে দিতে পারিনা। তুমি আমার জীবন,তুমিই আমার মনের রাজা। তুমিই আমার দিনের সূর্য আর রাতের জোস্না। তুমিই আমার স্বপ্নের রাজকুমার। তুমি বিহনে আমার জীবন শূন্যমরুভুমি।
হাসপাতাল থেকে নিজ বাড়ী ফিরে এল রুমানা রায়হান।ডাক্তার বলে দিয়েছেন,মানসিক চাপে জ্ঞান হারিয়ে ছিল। এখন বিশ্রাম আর মানসিক স্বস্তি প্রয়োজন।
ছেলে কারাগারে,মেয়ে মানসিক ভাবে অসুস্হ্য,নিজের যশ,পতি পত্তি,জমিজমা সব চলে যেতে বসেছে, মামলার খরচ জোগাতে আবারও জমি বিক্রী করতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি কারনে চোখে ষরসে ফুল দেখছেন, রায়হান সাহেব।
নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ট্রাকের পর ট্রাক প্রবেশ করছে,বিদ্যালয় মাঠে আর তুহীন দের বাড়ীতে।
চলবে,,,,,,,,
পূর্ব প্রকাশের পর : পর্ব :৫ ক্রম ধারা : ১৪
সমগ্র এলাকা জুরে শুরু হয় আরেক দফা গুন্জন। লোকে বলা বলি করতে শুনা যায়,রায়হান সাহেব জমিদারি হারিয়ে পথে বসতে লাগছে আর রমজান সাহেব হয়ে উঠতে শুরু করেছেন এলাকার সবচেয়ে বড় ধনী ও সম্মানী।
এই পরি বর্তনের প্রধান কারন হল, দু ‘জনের দুই ছেলে। একমাত্র তুহীনের মাধ্যমে রমজান সাহেব হয়ে উঠছেন,ধনী ও সম্মানী। অপর দিকে মাসুদ রায়হানের কারনে, রায়হান সাহেব মান, সম্মান,ধন -সম্পদ সব হারিয়ে পথের ভিখারি হতে যাচ্ছেন।
মহান আল্লাহ তায়ালাই সকল দন্ড মুন্ডের মালিক। তিনি ইচ্ছা করলে, পাহাড়কে সাগর আর সাগরকে ও পাহার বানাতে পারেন। তিনিই সর্বশ্রেষ্ট বিচারক, যিনি ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেননি। যাকে যখন যেমন করা দরকার তাকে তখন তেমনই করেন। তিনি ইচ্ছা করলে কাওকে ইজ্জত দান করেন আবার যখন খুশি তা কেড়ে নেন।
নির্দোষ তুহীনকে রায়হান সাহেব, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গ্রাম ছাড়া করেছিলেন। আজ তুহীন গুনে মানে হতে যাচ্ছে সবার সেরা আর মাসুদ রায়হানের কপাল পুড়ে ছাই হতে যাচ্ছে।
ধনের গৌরবে রায়হান সাহেব তার ছেলেকে সরকারী প্রাথমিকে না পড়িয়ে, নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্ডারগার্টেনে। অহংকার করেছিলেন,রমজানের ছেলের সাথে একই স্কুলে পড়লে নাকী তার মান সম্মান নষ্ট হয়ে যাবে। আজ কই গেল তার অহংকার আর গৌরব? সব কিছুই তো একে বারে মাটিতে মিশে যাচ্ছে।
চৌধুরী ফাউন্ডেশন সহ অন্যান্য শিক্ষা ফাউন্ডেশন ও সরকারের পক্ষ থেকে, পাঁচ লক্ষ টাকা মেধা বৃত্তি লাভ করেন তুহীন। বোন জামাইর মাধ্যমে সব টাকা পাঠিয়ে দেন তার বাবার কাছে।
রায়হান সাহেবের আরও কিছু জমির গ্রহীতা হলেন রমজান সাহেব। এখন এমন অবস্হা দাড়াল যে বাড়ীর বেড় হলেই পথ চলতে হয় রমজান সাহেবের জমির আল ধরে। আর শমসের আহম্মেদ চৌধুরী শিল্প কারখানা করতে চাইলে তা এখন এই জমির উপরই করা সম্ভব।
দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ভবন দুইটির নির্মাণ কাজ। মানুষের আলোচনার বিষয় বস্তু হয়ে দাড়াল,দুটি পাঁচতলা ভবন। দূর থেকেও নারী,পুরুষেরা আসে নির্মাণ কাজ দেখতে। কেননা পুরুষেরা হয়তো শহরে গিয়ে এত উচু ভবন দেখেছেন কিন্তু গ্রামের অনেক নারীই রয়েছেন, যারা জীবনে এক বারও দেখেননি পাঁচতলা ভবন বা এর নির্মান কৌশল।
দর্শনার্থীদের একেক জনের মূখে শুনা যায় একেক রকমের কথা। কেউ বলে শিল্প পতির মেয়ের সাথেই বিয়ে হবে তুহীনের। কেউ আবার বলে তাহলে, রুমানা রায়হানের কী হবে? সে তো সেই ছোট কাল থেকেই তুহীনকে ভালবাসে। কেউ আবার বলে রুমানার বাপ যে কাজ করেছ, মনে হয় না তুহীনের জীবনে আর রুমানার দিকে চোখ তুলে থাকাবে। তাদের মাঝেই আবার বলতে শুনা যায়, ভাল বাসা তো ভাল বাসাই।ভাল বাসা কী বাপ চিনে না কী?
বাপের দোষে কী কেও ভাল বাসার মানুষকে ভুলে যায়? তুহীন দেখবা ঠিকই একদিন রুমানা রায়হানকেই খুজবে। আবার এমনও শুনা যায়, তাই যদি হবে , তাহলে শিল্পপতিই বা কেন তুহীনদের কে পাঁচ তলা বাড়ী বানিয়ে দিবে? টাকা থাকলেই কী মানুষ এমনি এমনিই আরেকজনকে দিয়ে দেয় নাকী? পিছনে তো উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকে।
চলবে,,,,,,,,,,
