শিক্ষা মূলক -গল্প ৩

Posted on

 (পূর্ব প্রকাশের পর)

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

পর্ব : (৩)  ক্রম ধারা : (৯ )  

“””””””””””””””””””‘”””””””””””””””””””””””””‘”””‘

তুহীন আন মনে ভাবে না জানি কী কথা নিয়ে এল,হেনা? কী ভাবছেন? হেনা জিজ্ঞেস করে।তুহীন কই,না ‘ত।

হেনা বলতে শুরু করে,’গ্রামে বেড়াতে আমার খুব ইচ্ছা করে। ভেবে ছিলাম পরীক্ষার পর আপনাদের গ্রামে বেড়াতে যাব। বলি,বলি করে আর বলা হল না। তাছাড়া আপনিও গ্রামে যাওয়ার কথা বলেননি কোন দিন। 

সেই আড়াইটি বছর পেরিয়ে গেল,নিজেও যাননি আমাদেরও যেতে বলেননি। তাই নিজ থেকেই বলতে এলাম আপনাদের গ্রামের বাড়ীতে যাবার কথা। আমি আরও শুনেছি,আমার বাবাকে প্রধান অতিথি করে আপনার গ্রামের স্কুলের বর্তমান সভাপতির বিদায় এবং আপনার কৃতিত্বের সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।’ 

যা শুনেছ সব ঠিক শুনেছ। কিন্তু যে তারিখে অনুষ্ঠাণ সেই তারিখেই রাজধানীর একটা কলেজে আমার ভর্তি পরীক্ষা। এবার তুমিই বল আমি কোনটা করব? প্রশ্ন রাখে তুহীন।

হেনা বলে ‘কলেজে ভর্তি হওয়া হল আপনারজীনব গড়ার প্রস্তুতি। জীবন যুদ্ধে সফল হোন, এই কামনা আমার চেয়ে বেশী আর কে করতে পারে? কারন আপনার সফলতাই তো আমার জীবনের,,,,,,,,,,,,। তবে ঐ তারিখে আপনার পরীক্ষা,তা কি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানেন? 

আমার বাবাকে কী,ব্যাপারটা খুলে বলেছেন? তুহীন জানায়, তোমার বাবাকে তা জানাইনি। কারন শত ব্যাস্ততার মাঝেও উনি যখন সম্মত হয়েছন অনুষ্ঠণে যাবেন বলে,তখন আমার ভর্তিপরীক্ষার কথা জানানো তোমার বাবার বিরক্তির কারন হয় কি না, তা ভেবে জানাতে সাহস পায়নি। তাছাড়াতোমার বাবার সামনে দাড়িয়ে কথা বলা,,,,। 

যাই  হোক যা হবার হয়েছে,সমস্যা সমাধানের জন্য এখন তোমাকেই দায়িত্ব নিতে হবে। প্রথমত আমার হয়ে তোমার বাবাকে তুমি বুঝাবে। দ্বিতীয়ত স্কুলের অনুষ্ঠাণে আমার জায়গাটা পূরণ করতে হবে তোমাকেই। 

 উত্তরে হেনা জানায় বাবাকে বুঝাতে পারব তা ঠিক আছে। কিন্তু আপনার শূন্যস্হান আমাকে দিয়ে পূরণ হবে কী ভাবে?

 তুহীন বলে,’আমার শূন্যস্হাণ তোমাকে দিয়েই পূরণ হবে। কারন অনুষ্ঠাণের আগে কেউ জানবেনা আমার অনুপস্হিতির কথা। যখন অনুষ্ঠাণ শুরু হবে তখন আমার হয়ে তুমি বক্তব্য রাখবে আর আমার লেখা প্রবন্ধ পাঠ করে শুনাবে। দেখবে দর্শক,স্রোতা করতালির মাধ্যমে তোমাকে উৎসাহিত করবে। 

এ ছাড়া শিল্প পতির সাথে তাঁর মেয়ের উপস্হিতি দেখে গ্রামের সকল মানুষ আনন্দে লাফিয়ে উঠবে।

হেনা মনে মনে ভাবে,’আমিতো এমনটি’ই চাই, আপনার জন্যইতো আমার জীবনটা উৎসর্গ করতে চাই।”

কথা শেষ করে,তুহীন বলে,রাত অনেক হল,এবার ঘুমাবে যাও।

সম্মতি সুচক ভঙ্গিতে হেনা বেড়িয়ে চলে যায় তার নিজ শয়ন কক্ষে। 

                                    চলবে,,,,,,,,,,,।

(পূর্ব প্রকাশের পর।)

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

পর্ব : (৪) ক্রম ধারা : (১০)

শিল্প পতির আগমনী বার্তায়,তুহীনদের গ্রাম ছাড়িয়ে আশে পাশের কয়েকটি ইউনিয়নে পর্যন্ত বয়ে বেড়াচ্ছে আনন্দের ঝড়। মানুষের মূখে মূখে শুনা যায়,একমাত্র তুহীনের খাতিরেই শিল্পপতির আগমন। তুহীন নামটি যেন পরিচিত হয়ে উঠছে গ্রামের পর গ্রামে। আজ আর তুহীন শুধু নিছক একটি নামই মাত্র নয়,সে আস্তে আস্তে হয়ে উঠছে সকলের প্রিয় মানুষ। ঘনিয়ে আসছে অনুষ্ঠাণের দিন তারিখ। 

এরই মাঝে পোষ্টার, ব্যানার আর তোরণে তোরণে ছেঁয়ে গেছে পুরো এলাকা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে শুরু করে কয়েক গ্রাম পর্যন্ত দেখা যায়,শমসের সাহেব ও তুহীনের ছবি এবং বিভিন্ন শ্লোগান সংবলিত পোস্টার,ব্যানার। পুরো এলাকা যেন সাজতে শুরু করেছে স্বপ্ন পুরীর সাজে। শুধু যে মাত্র বাইরের সাজ তা কিন্তু নয়। মানুষের মনের ভিতরে ও চলছে নানা জল্পনা কল্পনা আর আনন্দের বন্যা। 

নতুন রঙ্গে রাঙ্গিয়ে উঠছে শিশু,যুবক ও বৃদ্ধের মনের আঙ্গীনা। নারী, পুরুষ সকলেই অপেক্ষায় ক্ষণ গুনছে এই শুভ দিনটির। শিল্পপতি সাথে তুহীনের আগমনী বার্তায় এলাকায় সাজ সাজ রব আর মানুষের মনে বয়ছে আনন্দের জোয়ার। 

অপর দিকে রুমানা বুনছে স্বপ্নের জাল। চলে যাবে বাবার সভাপতির পদ,দুঃখ নাই তাতে। পদটি পেতে যাচ্ছেন, রমজান সাহেব। তুহীন আসছেন অনেক দিন পর। দেখা হবে,কথাও হবে। দেখা আর কথা হবে শুধু তাই নয়। আরও কিছু হবে। কেননা অনুষ্ঠাণ  সুচিতে রয়েছে,তুহীনকে সাফল্যের মালাটা পরিধান করাবে রুমানা রায়হান।

 এখানেই রুমানার রহস্য ভরা স্বপ্ন। মালা পরাতে গিয়ে সবার অগোচরে রুমানা আঙ্গুলের পরশ বুলিয়ে দিবে,তুহীনের দু ‘গালে। খুব কাছে দাড়িয়ে বলবে,আমি তোমাকে ভালবাসি। তুমি শুধুই আমার।আর কত কাল তোমার অপেক্ষায় থাকতে হবে? আর ও সাত বছর! ওমা বল কী? তখন তো আমি একুশ বছরের বুড়ি হয়ে যাব। আচ্ছা ঠিক আছে একুশ কি একচল্লিশ এসব কোন ব্যাপার না  আমি চাই তোমার জীবনের সফলতা। 

সফলতা লাভের পর এসে বলবে, ‘রুমানা  আমি তোমার। কী বলবে তো?  আচ্ছা ঠিক আছে,যূগের পর যূগ আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব। শহরের আধুনিক কোন মেয়ের প্রেমে কিন্তু পরে যেওনা। তাহলে কিন্তু আমি গলায় দড়ি দিব,বলে রাখছি।

 স্বপ্নের নায়কের অপেক্ষায় এই ভাবে কল্পনার আকাশে পাখা মেলছে রুমানা রায়হান।

প্রচার মাইক থেকে শুনা যাচ্ছে,আগামী কাল সকাল দশ ঘটিকায় অত্র গ্রামের বিদ্যালয় মাঠে  অনুষ্টিত হবে, হাজার বছরের শ্রেষ্ট সংবর্ধনা অনুষ্টান। 

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্হিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাটির সত্বাধিকারি, জনাব শমসের আহম্মদ চৌধুরী। সাথে থাকবেন, অত্র গ্রামের কৃতি সন্তান  তুহীন। আরও উপস্হিত থাকবেন, প্রধান জেলা প্রকৌশলী ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের সংবাদ কর্মী বৃন্দ।

                                   চলবে,,,,,,,

অভাবের গল্প -১ নেকবর খান