আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মসজিদে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রমজান মাসজুড়েই আফগানিস্তানে মসজিদকেন্দ্রিক হামলার ঘটনা ঘটছে।আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ মুখপাত্র বেসমুল্লা হাবিব বলেন,
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিকালের দিকে কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে খালিফা সাহিব মসজিদে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। সরকারিভাবে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সুন্নি ওই মসজিদটিতে শুক্রবারের নামাজের পর জিকিরের জন্য সমবেত মুসল্লিদের ওপর এ হামলা হয়। মসজিদের ইমাম সৈয়দ ফজিল আগা বলেছেন, ওই জমায়েতে কোনও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ঢুকে পড়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলেই তারা মনে করছেন।
রয়টার্স বার্র্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, “কালো ধোঁয়া চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। চারপাশে কেবল লাশ আর লাশ।” নিহতদের মধ্যে নিজের ভাতিজাও ছিল জানিয়ে সৈয়দ আগা বলেন, “আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু আমার প্রিয়জনকে হারিয়েছি।”স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তিনি আহত মানুষজনকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন। “বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়েছে, মনে হচ্ছিল আমার কানের পর্দা ফেটে গেছে”, বলেন তিনি।
কাবুলের শহরতলীর এমার্জেন্সি হসপিটাল জানিয়েছে, ২১ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর দুইজন হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই মারা গেছে।হাসপাতালের একজন নার্স জানিয়েছেন, কয়েকজন আহত মানুষের অবস্থা খুবই গুরুতর। হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৩০ টি লাশ নেওয়া হয়েছে বলে জানান এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন এবং এর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।হামলার জন্য কে দায়ী তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আফগানিস্তানে সম্প্রতি দফায় দফায় এমন হামলা হয়েছে। তার মধ্যে কিছু হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
এর আগে সর্বসাম্প্রতিক হামলাটি হয়েছে গত শুক্রবার। তালেবান গতবছর অগাস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পরই আইএস কে অনেকাংশেই দমন করে দেশকে নিরাপদ করা হয়েছে বলে দাবি করলেও এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি এখনও তালেবান শাসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলেই অভিমত আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের।
