হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কালনী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার বদলপুর ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের প্রায় অনেকগুলো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানতে চেষ্টা করছে উপজেলা প্রশাসন।
আজমিরীগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালনী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে দুপাড়ের অনেকগুলো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া আজমিরীগঞ্জ শহরের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। আজমিরীগঞ্জ শহরের নিচু এলাকা, উপজেলার বদলপুর ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
কাকাইলছেও ইউনিয়নের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫০টির বেশি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আজমিরীগঞ্জ শহরের আদর্শনগর, জয়নগর পানিতে তলিয়ে গেছে।
এই এলাকার লোকজন আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। সকাল থেকে তাদের জিনিসপত্র বৃষ্টিতে ভিজে আনার চেষ্টায় ভুক্তভোগীরা।

আজমিরীগঞ্জের বাসিন্দা মিলাদ মাহমুদ জানান, আজমিরীগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে কাকাইলছেও, বদলপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ জুন) ভোর থেকে পাহাড়পুর, পিরোজপুর, কাকাইলছেও এবং পৌর সদরের বেশ কটি গ্রাম তলিয়ে গেছে।
এ ছাড়া আজমিরীগঞ্জ শহরের নিচু এলাকাগুলোতেও হু হু করে পানি ঢুকছে। কাকাইলছেও ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল রায় জানান, কালনী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। লোকজন বন্যার আতঙ্কে সময় পার করছে।
হাওড়ের ঘরবাড়িগুলো প্লাবনের মধ্যে পড়েছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে।আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান সজিব বলেন,
আমার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি মিটিং করেছি। মানুষের নিরাপদ রাখতে আমরা চেষ্টা করছি।
