পাশের বাসায় নতুন বউ এসেছে।
তাই নিয়ে এ পাড়ায় এখন গল্পের আসর সরগরম।পাড়ার বৌ-ঝি’দের থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের আসরে,বুড়ো থেকে উঠতি বয়সের তরুণ,সবার এখন গবেষণার ঐ একটাই বিষয়; পাড়ার নতুন বউ।
ভাবছেন,এভাবে বলার কি আছে? নতুন নতুন বিয়ে হলে নতুন বউদের নিয়ে ও অমন একটু গল্প তো হয়েই থাকে। হুম,তা ঠিক। কিন্তু এযে অন্যরকম গল্প মশাই, তাইতো এতো কথা! হুঁ হুঁ, গল্পে বেশ মশলা আছে মশাই;তবে সে আপনারা যেরকম মশলার কথা ভাবছেন,সেরকম নয় তা আগেই বলে রাখছি।তাহলে বিষয়টা কি? হুম,চলুন দেখি বিষয়টা কি?
কথা হচ্ছে, নতুন বউয়ের এটা দ্বিতীয় বিয়ে।
ও আচ্ছা,সে তো হয়েই থাকে। আজকাল এটা কোনো ব্যাপার না।
হুম,তা ঠিক। নতুন বউয়ের একটা মেয়েও আছে,যার বয়স সতেরো বছর।
এ্যা?
হুম,এ্যা নয়; হ্যাঁ।
এই শুরু হয়ে গেলো তো মনের ভেতর খচখচ।এখন যেনো আর ঐ গল্পের আসরে নিজেকে একজন সদস্য না করে শান্তি লাগছে না!কি, তাইতো?
এবারে শুরু হয়ে যাবে নানারকম মুখরোচক সব প্রশ্ন!
এ বয়সে কেউ বিয়ে করে?তাও যেখানে এখন মেয়েকেই বিয়ে দেবার পালা!তা এতোই যদি বিয়ে করার শখ তা বাপু আরো আগে কেন করলি না!এখন এই বয়সে মা হয়ে মেয়ের সামনে আবার বিয়ে? ছিঃ ছিঃ ছিঃ!
এ তো গেলো গল্পের প্রথম অধ্যায়।
ও,দ্বিতীয় অধ্যায়ও আছে?
হুম,তাইতো বলছি। গল্প তো মশাই সবে শুরু।এ বউ তো এমনি এমনি বউ হয়ে আসেনি! প্রবাসী স্বামীর অঢেল অর্থ – সম্পদ থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও একটা ফ্ল্যাট মোহরানা হিসেবে নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে তবেই এসেছে! হুঁ!
এ্যাআআআআ!
হুম,আর বিয়ের সময়তো দামি দামি শাড়ী,স্বর্ণালঙ্কার তো ছিলই।
কি,উঠে গেলো তো চোখ কপালে?
এবার মিললো তো এ পাড়ার নতুন বউকে নিয়ে কেন এতো গল্প?
জানি,এবার আপনার মনেও প্রশ্ন জাগছে; এ কি বিয়ে নাকি ব্যবসা! এজন্যই তো আজকালকার দিনের ছেলেপেলেরা ঐ ফেইসবুকে পোস্ট দেয় যে, মোহরানার নাম করে বিয়েটাকে নাকি ব্যবসায় পরিণত করেছে মেয়েরা।এবার বুঝুন তাহলে মশাই, কথাটা কতোখানি সত্যি!
হুম,তাইতো!তো চলুন গল্পের তৃতীয় ও শেষ অধ্যায়ে।
নতুন বউটি যখন ছোট্ট মেয়েটিকে কোলে করে তালাকপ্রাপ্ত হয়েছিল,তখন তার বয়সী মেয়েদের সবে বিয়ের পাত্র দেখা হচ্ছিল।
বাবার বাড়িতে একজন তালাকপ্রাপ্ত মেয়ের অবস্থান ঠিক কতোটা সম্মানজনক,তা আশা করি আমাদের সমাজ সামাজিকতায় কম বেশি সবারই জানা।তাই মেয়েটির বাবা-মা যখন নতুন করে মেয়েটিকে আবার ঘর বাঁধতে বলেছিলো;মেয়েটি শুধু বলেছিলো তার এমন একজন মানুষ চাই,যে তাকে তার মেয়েকেসহ মানবে।ব্যস,এতেই কেটে গেলো এতো গুলো বছর!
গল্প-উপন্যাসে, নাটক – সিনেমায় এরকম মানুষের দেখা হরহামেশা মিললেও; বাস্তবে হলো তা ঐ সুখী মানুষের জামার মতো!যেন তা ভিনগ্রহের কোনো আজব প্রাণী যার দেখা পেতে হলে মহাকর্ষ চষে বেড়াতে হয়!
ইতোমধ্যে বিয়ের প্রস্তাব বহুবার এসেছে।
আর তাকে শুনতে হয়েছে, “সবই ঠিক আছে;শুধু ঐ মেয়েটা না থাকলেই হতো!মেয়েটাই যতো ঝামেলা!”
কেউবা নিয়েছে তার বাপের সম্পত্তির খোঁজ!কেউবা খুঁজেছে তার চাকরির নিশ্চয়তা! জানতে চেয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স ও গয়নাগাটির হিসেব!
যারা গল্প পড়তে ভালোবাসেন এবং লিখতে ভালোবাসেন তারা
আমার আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে রাখতে পারেন নিত্যনতুন ও সবার আগে গল্প পাওয়ার জন্য, আগের আইডি হ্যাক হয়ে গেছে তাই নতুন করে এই আইডি আশা করি আপনারা পাশে থাকবেন। ধন্যবাদ।
এটাইতো স্বাভাবিক!কি, তাইতো? না?
দ্বিতীয় বিয়ে,মেয়ের দায়ভার; সব মিলিয়ে একটা ছেলে তো এসব চাইতেই পারে!
হুম, চাইতেই পারে!এটাই আমাদের মানসিকতা!
অথচ কেউ ভেবে দেখেনি, মেয়েটিকে তারা বিয়ে করতে এসেছিলো; ব্যবসা করতে নয়!
যারা এসেছিলো তাদেরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে!
তাদেরও সন্তান ছিলো! একটা, দুটো, তিনটে!
বিয়ে করলে মেয়েটিকে স্ত্রী হিসেবে নিতে হতো তাদের সন্তানদের দায়িত্ব।
আর মেয়েটির সন্তান মেয়েটিরই অংশ।আর এই অংশকে বাদ দিয়ে শুধু যারা মেয়েটিকে চেয়েছিলো ওসব নানা হিসেব কষে,তারা কি আদৌ মানুষ!
আর আজ যখন মেয়েটির বাবা-মা মেয়েটির ভবিষ্যত নিরাপত্তার কথা ভেবে এরকম একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে মেয়েটিকে বিয়ে দিলেন,অমনি শুরু হয়ে গেলো তো নানারকম গাল-গপ্পো!
এখন আবার কেউ কেউ বলে বসবেন,সে যাই হোক বাপু! বিয়েই কি সব নাকি? তা বলে এ বয়সে, এভাবে বিয়ে?
কেনরে ভাই?
এসব বলার আগে, কেউকি ভেবেছেন, বাবা-মা তো চিরকাল কারো বেঁচে থাকে না! বার্ধক্য জেকে বসেছে শরীরে।তাদের মৃত্যুর পর তাদের মেয়েটি তার উঠতি বয়সী মেয়েকে নিয়ে বর্তমান সমাজ সামাজিকতায় কিভাবে নিরাপদ থাকবে,সে চিন্তা তো তাদের হতেই পারে!
তাই বলে মোহরানায় ৫ লক্ষ টাকা আর একটা ফ্ল্যাট? ব্যবসা না কি!
আপনার আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগলেও মেয়েটির দিক থেকে ভাবুন তো একবার? তার যখন ডিভোর্স হয়েছিলো তখন তাকে ছেড়ে আসতে হয়েছে তার নিজের বলতে যে ঘর ছিলো, সেই ঘর!ছেড়ে আসতে হয়েছে তার স্বপ্ন আর সাধ দিয়ে সাজানো সংসার!স্বামী বলে যে মানুষটি তার ছিলো,সে এক নিমিষেই এক মেয়ের বাবা হয়েও ছেড়ে যেতে পেরেছিলো তাদের!যেখানে মেটানো হয়নি মোহরানার হিসেব!যেখানে নেয়া হয়নি মেয়েটির ভরণ পোষণের দায়িত্ব! সেখানে এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেয়া কি আসলেই খুব বেশি অস্বাভাবিক? অন্যায়?
দেশে কি আইন কানুন নাই?মেয়েটি আইনের আশ্রয় নিতে পারতো!
হুম,পারতো। কিন্তু মেয়েটি ভেবেছিলো, আইন না হয় তার মোহরানা ফিরিয়ে দিবে কিন্তু মানুষটা? যেখানে মানুষটাই নিজের নয়,সেখানে এই আইন কানুন করে আর কি হবে!
তাই বলে শাস্তি হবে না?
হুম,হবে হয়তো।সবাই একভাবে ভাবে না।মেয়েটি ভেবেছিলো,সে তাদের ছেড়ে চলে গেলেও, সে তার মেয়ের বাবা। সন্তানের কাছে বাবাকে ওসব আইন কানুন করে আর ছোট করতে তার ইচ্ছে হয়নি!
আর তারচেয়ে ও বড় কথা এই যে,যে মানুষটি তাকে বিয়ে করে এ বয়সে নতুন বউয়ের মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে বানিয়ে দিয়েছে সবার গল্পের মধ্যমণি; তিনি নিজেই কিন্তু এসমস্ত বিষয় মেনেই তাকে বিয়ে করেছেন। তাঁর নিজেরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি নিজেও ডিভোর্সি।তিনি নিজেও দুই পুত্র সন্তানের জনক।
এতো দিন পর,সেই ভিনগ্রহের প্রাণীটিকে খুঁজে পেয়ে মেয়েটির বাবা-মা তাই আর দেরি করলেন না।প্রবাসী পাত্র,মেয়েসহ মানবে আর তাদের কথা অনুযায়ী সব শর্তও মানবে।আর কি চাই!তাই,মেয়েটি আজ এ পাড়ার নতুন বউ; সবার গল্পের মধ্যমণি!
(লেখাটা কাল্পনিক হলেও, প্রেক্ষাপট বাস্তব। বাস্তবতার নাম করে একটা স্বাভাবিক বিষয়কে অস্বাভাবিক করে তোলে, এরকম কিছু মুখরোচক গল্প।যার ভিড়ে চাপা পড়ে যায়, এমনই বাস্তব সব গল্প!)
নতুন বউ
লেখা: ফয়ছল,আহমেদ,রাফি।
